Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রকল্প

 

জেলা খাদ্য বিভাগ, যশোর এর বিগত ৪ (চার) বছরের উন্নয়ন খতিয়ান/বিবরণীঃ

        দেশেরমানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এপ্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য সরকার বিভিন্নমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপের সাথে খাদ্য চাহিদা বৃদ্ধি, জলবায়ুপরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব সত্ত্বেও খাদ্য উৎপাদনেউল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্যের অস্থিতিশীলমূল্য পরিস্থিতি ও উচ্চমূল্যের কারণে সরকার কর্তৃক খাদ্য নিরাপত্তানিশ্চিতকরণে আপদকালীন মজুদ ব্যবস্থা সূদৃঢ় করা হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ ওআন্তর্জাতিক বাজার থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে। ফলে, স্বল্প আয়েরজনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং খাদ্যশস্যের মূল্য স্থিতিশীলরাখতে ব্যাপক সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। খাদ্য মূল্য সহনীয় পর্যায়েরাখার লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রমকে অধিকতর বিস্তৃত ওকার্যকরী করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসকে প্রাধান্য দিয়ে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করাহয়েছে। নিম্নে জেলা খাদ্য বিভাগ, যশোর এর অর্জিত সাফল্য উপস্থাপন করা হল :

OMS (খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয়) কার্যক্রম পরিচালনা

বাজারমূল্য অপেক্ষা কম মূল্যে চাল বিক্রয় করায় নিম্নআয়ের ও দুঃস্থ জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে।  জেলার  পৌর এবং শ্রমঘন এলাকা এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিলারের মাধ্যমে চাল বিক্রয় করায় একটি সুষ্ঠুবিতরণ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।একার্যক্রমে বিগত চার বছরে জেলার ৪৯,৭৪,০০০ জন ভোক্তার মাঝে ১৪,৯২২ মে/টন  খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে।ওএমএস কার্যক্রমের সাফল্যের ফলে খাদ্যশস্যের মূল্যনিয়ন্ত্রিত হয়েছে এবং সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা বিধানের জন্য সরকারিপ্রতিশ্রুতির ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

গম ভাংগিয়ে আটা বিক্রয় কার্যক্রম

গমভাংগিয়ে আটা প্রস্তুত করে স্বল্পমূল্যে বিক্রয়ের জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়একটি নূতন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে। এ কর্মসূচীতে আটা ও ময়দা কলগুলোতে গমসরবরাহ করে ফলিত (পেষণকৃত) আটা ডিলারের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে বিক্রয় করায়নিম্নআয়ের জনগণ উন্নতমানের আটা ক্রয়ের সুযোগ পেয়েছে এবং বাজারে আটার মূল্যনিয়ন্ত্রণ এবং স্থিতিশীল রয়েছে। আটা/ ময়দাকলগুলোর গম পেষণ করে ফলিত আটাপ্রস্তুত ও সরবরাহে সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।একার্যক্রমে জেলার ২০,০০,৬৬৬ জন ভোক্তার মাঝে ৬০০২ মে/টন উন্নতমানের আটা  বিতরণ করা হয়েছে।

সুলভমূল্য কার্ডের (ফেয়ার প্রাইস কার্ড) মাধ্যমে খাদ্যশস্য বিতরণ

যশোর জেলার ১,৩৬,৩৫৪ জন সুবিধাভোগী মানুষের মাঝে সুলভমূল্য কার্ড সরবরাহ করে প্রতিটিপরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে মাসিক খাদ্য সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে বর্তমানসরকার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। ওএমএস কার্যক্রমের চাল ক্রয়ের সুবিধাগ্রহণে অপারগ ব্যক্তি/পরিবার স্বল্পমূল্যে খাদ্যশস্য ক্রয়ের সুবিধা গ্রহণকরতে পেরেছে।  ফলে, নিম্নআয়ের জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে।যশোর জেলায় বিগত চার বছরে  এ-খাতে ৬১০৩ মে/টন খাদ্যশস্য বিতরন করা হয়েছে।

 

সরকারী কর্মচারী ও শ্রমবহুল প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকগণের জন্য খাদ্যশস্য বিতরণঃ

সরকার নিম্নআয়ের ৪র্থ শ্রেণীর সরকারিকর্মচারি, গ্রাম পুলিশ সদস্য এবংবৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানের  শ্রমজীবি কর্মচারীদের জন্যযথাক্রমে সুলভমূল্য কার্ড ও বিশেষ ব্যবস্থায় খাদ্যশস্য সরবরাহের কর্মসূচীবাস্তবায়ন করেছে। একর্মসূচীতে অত্র জেলায় ৩৬২ মে/টনস্বল্পমূল্যে খাদ্যশস্য   বিক্রয়ের কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেছে।

vঅভ্যন্তরীণ উrস হতে চাল ও গম সংগ্রহ

উৎপাদককৃষকগণের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়ক মূল্য (Support price) প্রাপ্তিনিশ্চিত করার লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস কে প্রাধান্য দিয়েথাকে। বিগত চার বছরে যশোর জেলায় ৫৮,৪৩০ মে/টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করেছে।

সারা বছর খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিতকরণ

সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনা (পিএফডিএস)এর বিভিন্ন চ্যানেলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্যনিয়মিত ও নির্বিঘ্নভাবে সরবরাহ করা সত্বেও জেলার ১০টি এলএসডিতে বিগত চার বছরে ৪৩,৮০০ মে/টন খাদ্যশস্য সার্বক্ষনিক মজুদ ছিল।জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা প্রাকৃতিক দূযোর্গ যেমন-ঘূর্ণি ঝড়,খরা,বন্যা প্রভৃতি কারণেফসলহানির আশংকা থাকলেও সরকারি বিতরন ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে।